এসআই অথবা পুলিশের চাকরিতে কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন? সম্পূর্ণ গাইডলাইন

বাংলাদেশে মোট চার পদে পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়, কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট (ট্রাফিক) এবং সহকারী পুলিশ সুপার। এর মধ্যে প্রথমটি তৃতীয় শ্রেণীর, দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি দ্বিতীয় শ্রেণীর এবং চতুর্থটি প্রথম শ্রেণীর সরকারী চাকুরী। প্রথম তিন পদে নিয়োগ হয় পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে, এএসপি নিয়োগ হয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে। নতুন নিয়মের ফলে মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে যোগ্যতর লোক বাংলাদেশ পুলিশে সুযোগ পায়।

নতুন নিয়মে এসআই নিয়োগ প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

নতুন নিয়মে এসআই পদে নিয়োগের জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হয়। প্রতি বছর ই বাংলাদেশ পুলিশে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এ পদে নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থীই আবেদন করতে পারে। উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী করে পুলিশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ বছর নতুন নিয়মে এসআই নিয়োগ পরীক্ষার আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

পড়ুনঃ ফায়ার ফাইটার এর কাজ কি? যোগ্যতা, বেতন এবং পদোন্নতি-ফায়ার সার্ভিস

এসআই পদের জন্য আবেদনের যোগ্যতা

পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রির অধিকারী এবং কম্পিউটারে দক্ষতাসম্পন্ন যোগ্যতা প্রয়োজন। প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে।

এসআই পদের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের ধাপগুলো নিম্নরূপঃ

প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংঃ

এসআই পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রি/স্নাতক/সমমান পরীক্ষার ফলাফল এবং উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী ওয়েববেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্টসংখ্যক যোগ্য প্রার্থী শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাইকরণসহ শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়।

শারীরিক মাপ ও সহনশীলতা পরীক্ষাঃ

ওয়েববেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ে বাছাই করা প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাইকরণসহ শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এ ধাপে প্রার্থীকে সাতটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে হয়।  

ইভেন্টগুলো হলো দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, পুশ আপ, সিট আপ, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইমিং।

এ ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষাকে তিন দিনে ভাগ করে নেওয়া হয়েছেঃ

প্রথম দিনঃ

সব কাগজপত্র নিয়ে প্রার্থীরা পরীক্ষার ভেন্যুতে উপস্থিত থাকবেন। ভেন্যুতে উপস্থিত হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট স্কেল দিয়ে তাঁদের উচ্চতা মেপে পরীক্ষার মূল ভেন্যুতে প্রবেশ করানো হবে।

● বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীদের উচ্চতা, ওজন ও পুরুষ প্রার্থীদের বুকের মাপ পরিমাপ করা হয়।

● প্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই করা হয়।

● শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাই করে সঠিক পাওয়া গেলে প্রার্থীদের যোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং প্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ডের এক কপি শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য দেওয়া হয়।

● প্রথম দিনে যোগ্য প্রার্থীদের Physical Endurance Test (PET)–এর সময় জানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইনডেমনিটি ঘোষণাপত্রের এক কপি দেওয়া হয়। উক্ত ইনডেমনিটি ঘোষণাপত্রে অভিভাবকের স্বাক্ষরসহ দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিতে হয়।

সম্পর্কিতঃ পুলিশ কনস্টেবল এর কাজ কি? যোগ্যতা, বেতন, পদোন্নতি এবং আবেদন প্রক্রিয়া

দ্বিতীয় দিনঃ

শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষার প্রতি ইভেন্টে আলাদাভাবে কৃতকার্য হতে হয়। কোনো প্রার্থী একটাতে অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হলে সে পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

প্রথম (দৌড়)ঃ পুরুষ প্রার্থীদের ১ হাজার ৬০০ মিটার দূরত্ব ৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে এবং নারী প্রার্থীদের ১০০০ মিটার দূরত্ব ৭ মিনিটে দৌড়ে দিয়ে অতিক্রম করতে হয়।

দ্বিতীয় (লং জাম্প)ঃ পুরুষ প্রার্থীদের কমপক্ষে ১০ ফুট ও নারী প্রার্থীদের কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব জাম্প করে অতিক্রম করতে হয়। এ ধাপে উত্তীর্ণ হতে সর্বোচ্চ তিনবার সুযোগ পাওয়া যায়।  

তৃতীয় (হাই জাম্প)ঃ পুরুষ প্রার্থীদের কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ ফুট এবং নারী প্রার্থীদের কমপক্ষে ২ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতা জাম্প করে অতিক্রম করতে হয়। এ ধাপেও উত্তীর্ণ হতে সর্বোচ্চ তিনবার সুযোগ পাওয়া যায়।

লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষাঃ

শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তিনটি বিষয়ে ২৫০ নম্বরের লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন বিষয়ে ১০০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বর এবং মনস্তত্ত্ব বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।

কম্পিউটার-দক্ষতা পরীক্ষাঃ

লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী কম্পিউটার-দক্ষতা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এ পরীক্ষায় মাইক্রোসফট অফিস, ওয়েব ব্রাউজিং এবং ট্রাবলস্যুটিং বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষাঃ

এ ধাপে প্রার্থীদের ৫০ নম্বরের বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত, মনস্তত্ত্বসহ বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগবিধি মোতাবেক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষাঃ

লিখিত, মনস্তত্ত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ঢাকায় নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বিমান বাহিনীর অফিসার ক্যাডেট পদে যোগ দিতে কি কি যোগ্যতা লাগে?

পুলিশ ভেরিফিকেশনঃ

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় পূরণকৃত পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম দাখিল করতে হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশনে কোনো প্রার্থী সন্তোষজনক বিবেচিত হলেই কেবল প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হবে।

মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনয়নঃ

মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন সিলেকশন বোর্ড কর্তৃক সুপারিশ করা প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ঘোষণা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্নের পর সন্তোষজনক বিবেচনায় মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে প্রার্থী কোনো তথ্য গোপন করলে বা অসম্পূর্ণ, ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর অব পুলিশ (নিরস্ত্র) হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।

প্রশিক্ষণকালীন সুযোগ-সুবিধাঃ

প্রশিক্ষণকালীন বিনা মূল্যে আহার, বাসস্থান, ইউনিফর্ম ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণার্থীরা সরকারি বিধি মোতাবেক নির্ধারিত হারে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রাপ্য হবেন; ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর অব পুলিশ (নিরস্ত্র) পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে কেউ এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় উপস্থিত না হইলে প্রার্থী চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে তাঁর ওই প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা চাকরিতে প্রবেশের আর কোনো সুযোগ থাকে না। শিক্ষানবিশ সাব-ইন্সপেক্টর অব পুলিশ (নিরস্ত্র ) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের শিক্ষানবিশকাল সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই অবিবাহিত থাকতে হবে।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নিতে হয়ঃ

শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এ পরীক্ষায় পাসসহ ভালো নম্বর পেতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। লিখিত তিনটি ধাপে নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষা হয় মোট ২৫০ নম্বরের।

ইংরেজি এবং বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন ১০০ নম্বরের। এখানে সময় তিন ঘণ্টা। সাধারণ জ্ঞান ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এখানেও সময় তিন ঘণ্টা। মনস্তত্ত্ব বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সময় ১ ঘণ্টা।

ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশনঃ

ইংরেজি বিষয়ের জন্য মূলত রচনা, শূন্যস্থান পূরণ, বাক্য তৈরি, চিঠি লেখা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ বেশি আসে। রচনার জন্য সমসাময়িক আলোচিত বিষয়, যেমন রোহিঙ্গা, শরণার্থী, স্বাস্থ্য অধিকার, শ্রম অধিকার, লিঙ্গবৈষম্য, আদিবাসী অধিকার ও এসডিজি চ্যালেঞ্জ পড়তে পারেন।

অনুবাদ অংশে ভালো করার জন্য ইংরেজি পত্রিকা থেকে নিজে নিজে বাংলা করার চেষ্টা করতে হবে। একই শব্দ বারবার ব্যবহার না করে নতুন নতুন শব্দ ব্যবহার করলে লেখার মান ভালো হয়। তবে শব্দচয়ন যেন সুন্দর ও সাবলীল হয়।

বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন অংশে গত বছরগুলোতে যে বিষয়গুলো বেশি এসেছে, সেগুলো হলো রচনা, ভাবসম্প্রসারণ, পত্রলিখন, এক কথায় প্রকাশ, বাগ্​ধারা, সমাস, কারক, বিভক্তি ও ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ।

বাংলা রচনার জন্য ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর যেকোনো রচনা পড়তে পারেন। সমসাময়িক বিষয়, যেমন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা, এসডিজি সফলতা, রোহিঙ্গা ইস্যু, পর্যটন, সুশাসন, সংবিধান, বিশ্বায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, জলবায়ুর পরিবর্তন, মুক্তবাজার অর্থনীতি—এ বিষয়ের ওপর ভালোমতো প্রস্তুতি নিলে ফল পাওয়া যেতে পারে। এ অংশ ভালো করার জন্য সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে, অর্থাৎ তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ও তাঁর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে হবে। ভাবসম্প্রসারণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির রচনা অংশের বোর্ড বইটি দেখলেই হয়ে যাবে।

দেখুনঃ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পদসমূহ কয়টি ও কি কি? যোগ্যতা ও বেতনস্কেল সহ অন্যান্য

সাধারণ জ্ঞান ও গণিতঃ

সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের চলতি বিষয়গুলোর ওপর সংক্ষিপ্ত কিংবা বড় প্রশ্ন আসতে পারে। ইংরেজি শব্দের পূর্ণরূপ, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, স্থান, রাজধানী, মুদ্রা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংস্থা, এমডিজি, এসডিজি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশ-সম্পর্কিত প্রশ্নও এসে থাকে। এ ছাড়া ভৌগোলিক বিষয়াবলি, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিষয়গুলোর ওপর প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

মনস্তত্ত্বঃ

এ অংশের জন্য আপনাকে সমার্থক, বিপরীত শব্দ ও শব্দ লেখা ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে। ছোট ছোট গাণিতিক সমস্যা, শব্দের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য, বিখ্যাত লেখক—এসব বিষয়ের ওপর প্রস্তুতি নিতে হবে। সময় ভাগ করে পড়তে হবে। এখন থেকেই নিয়মিত জাতীয় দৈনিকগুলো পড়লে অবশ্যই ভালো ফল আসবে ইনশাল্লাহ।

নতুন নিয়মে পুলিশ কনষ্টেবল নিয়োগ প্রস্তুতি কিভাবে নিবেন?

উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী করে পুলিশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতি বছর কনস্টেবল পদের নিয়োগ পরীক্ষার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য সাতটি ধাপ অনুসরণ করে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ এবং উন্নত দেশের নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে পুলিশের নতুন নিয়োগ নীতিমালা করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে যোগ্যতর লোক বাংলাদেশ পুলিশে সুযোগ পাবে।

পুলিশ কনষ্টেবল পদের জন্য আবেদনের যোগ্যতাঃ

প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ থাকতে হবে। সাধারণ ও অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধা (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তান ব্যতীত) কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। নারী প্রার্থীর উচ্চতা সাধারণ ও অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। বুকের মাপ সাধারণ ও অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি। মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি।

পুলিশ কনষ্টেবল পদের জন্য যে সাত ধাপে প্রার্থী বাছাই করা হয়ঃ

১. প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংঃ

আগ্রহী প্রার্থীদের এই ওয়েবসাইটে (police.teletalk.com.bd) লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। প্রার্থী মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে আবেদন নিয়োগের যেকোনো পর্যায়ে বাতিল হবে। আবেদনপত্র যাচাই–বাছাই শেষে আবেদনকারীর মুঠোফোনে পরবর্তী ধাপে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

. শারীরিক মাপ ও শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষাঃ

এই ধাপে মোট তিন দিন প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা হবে। প্রথম দিনে ভেন্যুতে প্রবেশের পর প্রার্থীর উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর দুই দিনে প্রার্থীকে সাতটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয় দিনে হবে চারটি ইভেন্ট ২০০ মিটারের দৌড়, পুশ আপ, লং জাম্প ও হাই জাম্প। তৃতীয় দিনে হবে তিনটি ইভেন্ট ১৬০০ মিটারের দৌড়, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইমিং।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে ২৮ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড়াতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৩৪ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড়াতে হবে। দ্বিতীয় ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে ৩৫ সেকেন্ডে ১৫ বার পুশ আপ দিতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৩০ সেকেন্ডে ১০ বার। পুরুষ প্রার্থীকে ১০ ফুট উচ্চতায় লং জাম্প দিতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৬ ফুট উচ্চতায়। পুরুষ প্রার্থীর জন্য সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার হাই জাম্প এবং নারী প্রার্থীর জন্য আড়াই ফুট উচ্চতার হাই জাম্প।

শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষার তৃতীয় দিনে পুরুষ প্রার্থীকে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ১৬০০ মিটার দৌড়াতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৬ মিনিটে এক হাজার মিটার দৌড়াতে হবে। ড্র্যাগিং ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে দেড় শ পাউন্ড ওজনের টায়ারকে টেনে ৩০ ফুট দূরত্বে নিতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ১১০ পাউন্ড ওজনের টায়ারকে টেনে ২০ ফুট দূরত্বে নিতে হবে। সপ্তম ইভেন্ট রোপ ক্লাইমিং। এই ইভেন্টে পুরুষ প্রার্থীকে দড়ি বেয়ে ১২ ফুট ওপরে উঠতে হবে এবং নারী প্রার্থীকে ৮ ফুট ওপরে উঠতে হবে। এই ইভেন্টে উত্তীর্ণ হলে প্রার্থী শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবেন।

পড়ুনঃ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক দায়িত্ব কর্তব্য এবং কাজ কি?

৩. লিখিত পরীক্ষাঃ

শারীরিক মাপ ও শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের ওপর মোট ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে।

৪. মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষাঃ

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১৫ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

৫. প্রাথমিক নির্বাচনঃ

প্রতি জেলার শূন্য পদ ও কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

৬. পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাঃ

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাস করলে প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশন সন্তোষজনক হলে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে। তবে ভেরিফিকেশনে তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

৭. চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্তকরণঃ

প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগদানের পর তাঁদের শারীরিক যোগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্য আবার যাচাই করবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনর্বাছাই কমিটি। এসব তথ্যা যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্ধারিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সাফল্যের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রস্তুতি সহায়কঃ

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড পাবলিসিটি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ রাখতে এখন থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কনস্টেবল পদে নিয়োগের নতুন নিয়ম নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।

নতুন নিয়মে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা শীর্ষক ভিডিওটি দেখে আগ্রহী প্রার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন। ভিডিওটিতে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

Leave a Comment