সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাইলে কি কি যোগ্যতা লাগে | সহজ ৫টি টিপস

‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ এই স্লোগান নিয়ে দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গঠিত হয়। বর্তমানে এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩ লাখের বেশি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্থল শাখা। এটি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্ববৃহৎ শাখা। সেনাবাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা সহ সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহায়তায় প্রয়োজনীয় শক্তি ও জনবল সরবরাহ করা। সেনাবাহিনীর সব ধরনের কর্মকাণ্ড সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রাথমিক দায়িত্বের পাশাপাশি যেকোন জাতীয় জরুরি অবস্থায় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাংবিধানিক ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সব জেলা থেকে সৈনিক পদে লোক নেবে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস পর পর সৈনিক পদে লোক নেওয়া হয়। এতে নারী ও পুরুষ উভয়েই আবেদনের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আবেদনের যোগ্যতা কি কি?

এসএসসি পাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া যায়। প্রায়ই বিভিন্ন স্টেডিয়ামে দেখা যায় এ ধরণের নিয়োগ প্রক্রিয়া। এক দিনের মধ্যেই লিখিত, মৌখিক এবং মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরকে এই পদে যোগ দিতে ডাকা হয়। এরা সফলভাবে ছয় মাস ট্রেনিং সম্পন্ন করতে পারলেই কেবল সৈনিক হিসেবে চাকরি প্রাপ্ত হয়। এদের ট্রেনিং কোর, আর্মস বা সার্ভিস ভেদে বিভিন্ন স্থানে হয় ।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ সাধারণ (জিডি) পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ–৩.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রার্থীর বয়স নির্দিষ্ট তারিখে ১৭ বছরের কম এবং ২০ বছরের বেশি হওয়া যাবে না।

কারিগরি পদে আবেদনের জন্য এসএসসি ভোকেশনাল থেকে সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে ন্যূনতম জিপিএ–৩.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। এসএসসি/সমমান পাস হলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেড কোর্সে ৬ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (টিটিটিআই) থেকে ট্রেড কোর্স সম্পন্নকারী নারী ও পুরুষ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে টেকনিক্যাল ট্রেডের (টিটি) ক্ষেত্রে শুধু পুরুষ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

শারীরিক যোগ্যতাঃ সাধারণ ও কারিগরি উভয় পদের জন্য পুরুষ প্রার্থীর শারীরিক উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি, ওজন কমপক্ষে ৪৯ দশমিক ৯০ কেজি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং স্ফীত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি হতে হবে। তবে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি, ওজন কমপক্ষে ৪৭ কেজি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি হতে হবে। তবে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে পাঁচ ফুট এক ইঞ্চি। নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, অবিবাহিত এবং সাঁতার জানা থাকতে হবে

অনুসরনীয়ঃ সেনাবাহিনীর জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এর কাজ কি? নিয়োগ পদ্ধতির বিস্তারিত

সৈনিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে নির্বাচন করা হয়?

আইএসপিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর সৈনিক নির্বাচন পদ্ধতি কয়েকটি ধাপে হয়। প্রার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বিষয় থাকবে পাঁচটি—বাংলা, গণিত, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রার্থীদের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বইগুলো পড়তে হবে, পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে ধারণা থাকলে সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে ভালো করা যাবে।

প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজ নিজ ভর্তি পরীক্ষার ৭২ ঘণ্টা আগে খুদে বার্তার মাধ্যমে পরীক্ষার স্থান ও তারিখ জানানো হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেওয়া হবে। টেকনিক্যাল ট্রেডের প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট ট্রেড বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পর কিভাবে প্রশিক্ষন দেয়?

লিখিত ও মৌখিক এবং অন্যান্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। সেনাসদরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক বছর মেয়াদি মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি চাকরির প্রার্থীরা এইচএসসি ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতি

চূড়ান্তভাবে সৈনিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা নির্ধারিত স্কেলে বেতন–ভাতা, পেনশনসহ বিনা মূল্যে আহার এবং উচ্চশিক্ষা ও বাসস্থান সহ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা পাবেন । এ ছাড়া মা–বাবা ও শ্বশুর–শাশুড়ির জন্য সম্মিলিক সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা, বিনা মূল্যে সরকারি পোশাক, ভর্তুকি মূল্যে রেশন এবং সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

তাছাড়া সেনাবাহিনীর নীতিমালা অনুযায়ী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগদান করার সুযোগ পাওয়া যাবে। দক্ষতা আর যোগ্যতার মাধ্যমে একজন সৈনিক পদোন্নতি পেয়ে সার্জেন্ট বা অফিসার হওয়ারও সুযোগ পেতে পারেন।

সেনাবাহিনীতে কত ধরনের বিভাগ (কোর) রয়েছে?

সেনাবাহিনীর বিভাগ বা কোর গুলোর নাম খুব সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য করে নিচে দেয়া হল

ক। আর্মার্ড – ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া বাহিনী

খ। আর্টিলারি – কামান বা গোলন্দাজ বাহিনী

গ। সিগন্যালস – এরা ওয়্যারলেস, টেলিফোন, রাডার ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন ও রক্ষা করে

ঘ। ইঞ্জিনিয়ার্স – এরা যাবতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ ছাড়াও পদাতিক বাহিনীর কাজও করতে সক্ষম

ঙ। ইনফ্যান্ট্রি – পদাতিক বাহিনী

চ। আর্মি সার্ভিস কোর – এরা সেনাবাহিনীর ফ্রেশ এবং ড্রাই রেশন, গাড়ি, চলাচলের তেল ইত্যাদি সরবরাহ করে

ছ। এএমসি (আর্মি মেডিক্যাল কোর) – সেনাসদস্য ও তার পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে

জ। অর্ডন্যান্স – যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ে ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন সাজ সরঞ্জাম,পোষাক,নিত্য ব্যাবহারের দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করে

ঝ। ইএমই (ইলেক্ট্রিক্যাল এ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর) – বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র তৈরি ও গাড়িসহ অন্যান্য বিভিন্ন যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের মেইন্ট্যানেন্সের কাজ করে

ঞ। মিলিটারি পুলিশ – এরা সেনানিবাসের ভেতর পুলিশিং, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকে

ট। এইসি (আর্মি এডুকেশন কোর) – সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেl এছাড়াও আর্মি ডেন্টাল কোর, রিমাউন্ড ভেটেরেনারী এ্যান্ড ফার্ম কোর , ক্লারিক্যাল কোর ইত্যাদি আরও কিছু ছোটখাট কোর বা বিভাগ রয়েছে ।

পড়ুনঃ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পদসমূহ কয়টি ও কি কি? যোগ্যতা ও বেতনস্কেল সহ অন্যান্য

সৈনিক পদে ভর্তি হলে কোন পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়া যায়? ধাপগুলো কি কি?

একজন সৈনিক সফলতার সাথে চাকরি করলে অনারারী ক্যাপ্টেন পর্যন্ত হতে পারে। ধাপগুলো হচ্ছেঃ

ক। সৈনিক

খ। ল্যান্স কর্পোরাল

গ। কর্পোরাল

ঘ। সার্জেন্ট

ঙ। ওয়ারেন্ট অফিসার

চ। সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার

ছ। মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার

জ। অনারারী লেফটেন্যান্ট

ঝ। অনারারী ক্যাপ্টেন

সেনাবাহিনীতে সেনা অফিসার হতে চাইলে কি যোগ্যতা থাকতে হয়?

একজন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট সেনা বাহিনীর সবচে জুনিওর র‍্যাঙ্কের কর্মকর্তা। এজন্য তাকে মিলিটারি একাডেমীতে দুই বছরের প্রশিক্ষণ সফলতার সাথে শেষ করার পাশাপাশি সফলতার সাথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল হতে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করতে হয়। তবেই তার নাম কমিশন্ড অফিসার হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়।

সাধারণত সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হতে লেফটেন্যান্ট হতে এক বছর সময় লাগে। যোগ্যতা অর্জন ও পদোন্নতি পরীক্ষায় পাস সাপেক্ষে তিন বছর চাকরি সম্পন্ন হলে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি হয়। একইভাবে সাধারণত যোগ্যতা অর্জন ও পদোন্নতি পরীক্ষায় পাস সাপেক্ষে আট বছর চাকরি সম্পন্ন হলে মেজর পদে পদোন্নতি হয়। লেফট্যানেন্ট কর্নেল এবং পরবর্তী পদবী সমূহ মেজর জেনারেল এবং তদূর্ধ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পদোন্নতি পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। অর্থাৎ মেজর থেকে লেফট্যানেন্ট কর্নেল এবং তদূর্ধ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন করা ছাড়াও উক্ত বোর্ডের অনুমোদন লাগবে।

মুলত এইচএসসি পাশের পর একজন সেনা কর্মকর্তা হবার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে আবেদন করতে পারেন। এখানে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের সেনা অফিসারদের মধ্যে গড়ে ৭০-৭৫ ভাগই আসে ক্যাডেট কলেজ থেকে। কিন্তু এর মানে এই না যে ক্যাডেট কলেজে পড়লেই সেনা অফিসার হতে পারবে। বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ গুলো থেকে প্রতি বছর আনুমানিক কম বেশী ৬০০ (১২ টি ক্যাডেট কলেজে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন করে) জন যদি পাশ করে বের হয়, এর মধ্যে আর্মিতে সুযোগ পায় কিন্ত গড়ে মাত্র ৮০- ১০০ জন। কারণ প্রতি ব্যাচে অফিসার হিসেবে বাকি ৫০০ জন কিন্তু অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। আমার জানা মতে, সকল ক্যাডেটদের জন্যই সেনা বাহিনীতে যোগদানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক যদিও একবারে ১০০ ভাগ ক্যাডেট সেনা অফিসার হতে চায় এরকম বলা যাবে না।

এই বিষয়ে নিশ্চয়ই কারো দ্বিমত নেই যে ক্লাস সেভেনে লক্ষ লক্ষ মেধাবী কিশোরের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে যাওয়া কিছু ভাগ্যবান এবং অসাধারণ মেধাবী ছেলেই পড়ার সুযোগ পায় ক্যাডেট কলেজগুলোতে (প্রতি কলেজে মাত্র ৫০ জন করে)। এদের মধ্যেও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গড়ে প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ মাত্র সুযোগ পায় সেনা অফিসার হওয়ার।

এছাড়া বাকি ২৫-৩০ ভাগ অফিসার আসে দেশের অন্যান্য বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যার মধ্যে অগ্রগণ্য হচ্ছে নটরডেম কলেজ, ঢাকা কলেজ, রাজউক কলেজ, বি এ এফ শাহীন কলেজ, আদমজী ক্যান্টঃ কলেজ সহ অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারী কলেজ। ক্যাডেট কলেজের পরই সবচে বেশি অফিসার সম্ভবত নটরডেম কলেজের। এছাড়াও দেশের অন্যান্য কলেজগুলো থেকেও সেনা অফিসার হিসেবে মিলিটারি একাডেমি তে যোগ দেবার সু্যোগ পায়। কাজেই সেনা অফিসার হতে গেলে এই সব মেধাবী ছেলে মেয়েদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে আপনাকে। এখানে বুয়েট, মেডিক্যাল বা অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার সাথে পার্থক্য এটাই যে শুধুমাত্র মেধার বিচারে সেনা অফিসার নির্বাচন করা হয় না। মেধা অবশ্যই অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর কিন্তু এর সাথে আরও অনেক বিষয় বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ NSI তে জুনিয়র ফিল্ড অফিসার এর কাজ কি? ফুল গাইডলাইন

সেনা বাহিনীতে অফিসারদের পদবীগুলো কি কি?

সেনাবাহিনীতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে জেনারেল পর্যন্ত মোট ১০ টি পদ আছে।

১। সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট

২। লেফটেন্যান্ট

৩। ক্যাপ্টেন

৪। মেজর

৫। লেফটেন্যান্ট কর্নেল

৬। কর্নেল

৭। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল

৮। মেজর জেনারেল

৯। লেফটেন্যান্ট জেনারেল

১০। জেনারেল

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) তে ক্যাডেট হিসেবে সুযোগ পেতে হলে কি কি পরীক্ষা দিতে হয়?

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার হওয়ার জন্য ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিতে যে কয়টি পরীক্ষা দিতে হয় তা হচ্ছেঃ

ক। প্রাথমিক মেডিক্যাল

খ। প্রাথমিক ভাইভা

গ। লিখিত পরীক্ষা

ঘ। আইএসএসবি বা চারদিন ব্যাপী আই কিউ, মনস্তাত্তিক, ভাইভা, নেতৃত্বের গুণাবলী, কমিউনিকেশন স্কিল, প্ল্যানিং,শারীরিক যোগ্যতা ইত্যাদির উপর পরীক্ষা।

ঙ। চুড়ান্ত মেডিক্যাল ও সাঁতার পরীক্ষা

চ। চুড়ান্ত ভাইভা

ক্যাডেট এর পরীক্ষাগুলো কোন কোন বিষয়ের উপর এবং কতগুলা ধাপে হয়?

প্রথমেই হয় প্রাথমিক মেডিক্যাল এবং ভাইভা পরীক্ষা। অনেকের ধারণা খুব লম্বা না হলে আর্মি অফিসার হওয়া যায় না। কিন্তু সত্য হচ্ছে, অফিসারদের জন্য ন্যুনতম উচ্চতা ৫ ফুট চার ইঞ্চি। বয়স ১৮ হতে ২১। এছাড়াও ভাইভা পরীক্ষাতে পরীক্ষার্থীর বিশেষ করে ইংরেজীতে দক্ষতা ও কমিউনিকেশন স্কিল দেখা হয়।

এই প্রাথমিক মেডিক্যাল ও ভাইভা উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় যা ক্ষেত্র বিশেষে প্রাথমিক পরীক্ষার এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষা অনেকটা বিশ্ববিদ্যালয় ভতি পরীক্ষার আদলে হয়। প্রতিটি লং কোর্সে যোগদানের জন্য গড়ে আনুমানিক বিশ থেকে তিরিশ হাজার পরীক্ষার্থী থাকলেও লিখিত পরীক্ষাতে এক-দেড় হাজারের বেশি উত্তীর্ণ হয় না। এই এক থেকে দেড় হাজার থেকে আবার গড়ে ৮০-৯০ জন চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন আইএসএসবির (আন্তঃ বাহিনী নির্বাচন পর্ষদের) চারদিন ব্যাপী পরীক্ষার মাধ্যমে।

গুরুত্বপূর্ণঃ বিমান বাহিনীর এমওডিসি কি এবং এর কাজ কি? বিস্তারিত দেখুন

আর্মিতে এনসিও এবং জেসিও কারা?

এনসিও হচ্ছে নন কমিশন্ড অফিসার এবং জেসিও বা জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, যেখানে সৈনিকদের মধ্য থেকে পদোন্নতি হয়ে ধাপে ধাপে এই পদগুলো প্রাপ্ত হয়। উপরের প্যারার কর্পোরাল ও সার্জেন্ট র‍্যাঙ্ক দুটি এনসিও এবং ওয়ারেন্ট অফিসার এর পরবর্তী পদগুলো জেসিও হিসেবে বিবেচিত। উল্লেখ্য, জেসিওরা দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারী কর্মচারী।

এছাড়াও কোন সৈনিক যদি অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম হয় সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তাকে অফিসার হিসেবে জিএল কমিশনও প্রদান করা হয়।

Leave a Comment